২০২৫ সাল

এশিয়ার বাজারে এলএনজির দাম কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ

২০২৫ সালে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বছর শেষে জ্বালানি পণ্যটির দর নেমে এসেছে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্নে।

২০২৫ সালে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বছর শেষে জ্বালানি পণ্যটির দর নেমে এসেছে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্নে। এ সময় চাহিদা কমতির দিকে থাকলেও রেকর্ড সর্বোচ্চ পরিমাণে এলএনজি আমদানি করেছে আমদানিকারক দেশগুলো। ফলে সরবরাহ চাপ জোরালো হয়ে দাম কমেছে জ্বালানি পণ্যটির। খবর নিক্কেই এশিয়া।

সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত এলএনজির চাহিদা বেশি থাকে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) দেয়া তথ্যানুযায়ী, বাড়তি এ চাহিদার পরও বর্তমানে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ৯ ডলারের মধ্যে রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এলএনজির দরপতনের পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখছে সরবরাহ বৃদ্ধি। কেপলারের শিপিং ডাটা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহ ৪ শতাংশ বেড়ে ৪২ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ ২৫ শতাংশ বেড়ে ১০ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এছাড়া গত বছর কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ পৌঁছেছে ৮ কোটি ১০ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার থেকে সরবরাহ চলতি বছরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় প্রকল্পগুলোয় উৎপাদন শুরু হলে জানুয়ারিতে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৪০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।

সরবরাহ বাড়লেও এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা কমছে। গত বছর এশিয়ার দেশগুলো ২৭ কোটি ৫০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা আগের তুলনায় ৪ শতাংশ কম। এর মধ্যে শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনের আমদানি ১৫ শতাংশ কমে ৬ কোটি ৬৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) গ্যাস অ্যানালিস্ট ইউতাকা শিরাকাওয়া বলেন, ‘চীনে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বেড়েছে। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যটির আমদানিও ঊর্ধ্বমুখী। এসব কারণে এলএনজির চাহিদা কমছে।’

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে চীন মার্কিন এলএনজি ক্রয় বন্ধ করেছে। একই সময় মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছে দেশটি।

জাপান অর্গানাইজেশন ফর মেটালস অ্যান্ড এনার্জি সিকিউরিটির এনার্জি বিজনেস ইউনিটের পরিচালক দাইসুকে হারাডা বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন রুশ এলএনজি চীন অনেক সস্তায় কিনছে। উদাহরণস্বরূপ বাজার মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশ কমে।’

কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, আর্কটিক এলএনজি-২ যদি চীনে রফতানি অব্যাহত রাখে তাহলে ২০২৬ সালে এ প্রকল্পের মোট রফতানি ৫৭ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা ২০২৫-এর তুলনায় চার গুণ বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, রাশিয়ার রফতানি বাড়লে বাজারে সরবরাহও আরো বাড়বে। ফলে সামনের দিনগুলোয়ও জ্বালানি পণ্যটির বাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও